রাজশাহীতে ধানক্ষেত থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার, শ্বাসরোধে হত্যার সন্দেহ
রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানা এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। ধরমপুর গ্রামের একটি নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ১১ বছর বয়সী আদিবের ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত রবিবার সন্ধ্যায় তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ হওয়া শিশুটির এই পরিণতি স্থানীয় এলাকাসহ পুরো অঞ্চলে গভীর শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রহস্যজনক অন্তর্ধান ও ভোরের বিভীষিকা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সন্ধ্যার পর আদিবকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের লোকজন বহু জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। অবশেষে পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুর নিকটাত্মীয়রা ঘাসের ক্ষেতে শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান। দ্রুত তারা পুলিশকে খবর দিলে কর্ণহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের আভাষ পাচ্ছে। কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিশুটির লাশের গলায় প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, ধারালো কিছু দিয়ে নয়, বরং বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে জোর দেওয়া হচ্ছে।
মামলার প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি হাবিবুর রহমান আরও নিশ্চিত করেন যে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে, পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।
আদিবের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অপরাধের নৃশংসতা এলাকাবাসীর মনে নিরাপত্তার প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছে। স্থানীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। একইসঙ্গে রাতের বেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জোরদার হচ্ছে।