সর্বশেষ
Loading breaking news...

কঙ্গোয় বিদ্রোহীদের পলায়নের পর গণকবরে ১৭১ জনের মরদেহ উদ্ধার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে এম২৩ বিদ্রোহীদের হটে যাওয়ার পর ১৭১ জনের দেহাবশেষ সংবলিত একাধিক গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য মতে, দক্ষিণ কিভুর উভিরা শহরের উপকণ্ঠে দুটি পৃথক স্থানে এই মরদেহগুলো পাওয়া গেছে। এই নৃশংস ঘটনাটি ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ভয়াবহতাকে পুনরায় ফুটিয়ে তুলেছে।

মরদেহ উদ্ধার ও নাগরিক সমাজের অভিযোগ

উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে কিরোমনি এলাকায় ৩০টি এবং কাভিমভীরা এলাকায় ১৪১টি দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ কিভু প্রদেশের গভর্নর জ্যাঁ-জ্যাক পুরুসি এই গণকবর আবিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় 'সিভিলিয়ান প্রোটেকশন নেটওয়ার্ক' দাবি করেছে যে, নিহতদের অধিকাংশকেই এম২৩ বিদ্রোহীরা হত্যা করেছে, কারণ তাদের সরকারি বাহিনীর সহযোগী বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কঙ্গোর সেনাবাহিনী এবং এম২৩ বিদ্রোহী—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আসছে। যদিও এম২৩ গোষ্ঠী দাবি করে যে তারা সংখ্যালঘু তুতসি সম্প্রদায়ের অধিকারের জন্য লড়াই করছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের ওপর অমানবিক অত্যাচারের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০২১ সালে এম২৩ বিদ্রোহীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর থেকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্রোহীরা উত্তর কিভুর রাজধানী গোমা সহ বেশ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। সম্প্রতি শান্তি প্রক্রিয়ার স্বার্থে বিদ্রোহীরা উভিরা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলে এই গণকবরগুলো প্রকাশ্যে আসে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই গণকবর আবিষ্কারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। কঙ্গো সরকার এই সহিংসতার জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে, যদিও রুয়ান্ডা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন