সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় ১৮০ শিশুর মৃত্যু, শোকস্তব্ধ মিনাব

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহর এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। সেখানকার একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ জনে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য হলো, নিহতদের প্রত্যেকেই নিষ্পাপ শিশু। সোমবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেন কেরমানপুর এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই ভয়াবহ খবরটি প্রকাশ্যে এনেছে।

রক্তস্রোতে ভাসছে শ্রেণিকক্ষ

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। হামলার পর থেকেই নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের সন্ধান করে যাচ্ছেন, যদিও সময় যত গড়াচ্ছে, আশার আলো ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে স্কুলটির ভেতরে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে। হামলার সময় অবুঝ শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে, যার ফলে প্রাণহানির ঘটনা এত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

সামরিক ঘাঁটির আড়ালে টার্গেট?

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দক্ষিণ মিনাবের আক্রান্ত ওই 'শাজাবা তাইয়্যেবা' স্কুলটি একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরে অবস্থিত। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুলটি এক সময় সামরিক ঘাঁটির অংশ থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদাভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ল লঙ্ঘিত সার্বভৌমত্ব, তীব্র ক্ষোভ

এই নারকীয় হামলার ঘটনায় ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এবং একে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তারা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। ১৮০টি তরতাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে।

আরও পড়ুন