সর্বশেষ
Loading breaking news...

রাঙামাটিতে সাংবাদিক জামাল হত্যার ১৯ বছর: আজও অধরা খুনিরা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

রাঙামাটির সাংবাদিক মো. জামাল উদ্দীনের ১৯তম শাহাদাত বার্ষিকী গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যরা দু’দিনব্যাপী বিশেষ ধর্মীয় কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত এই সংবাদকর্মীকে স্মরণ করেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পরও হত্যাকারীরা আইনের আওতায় না আসায় পরিবারের সদস্যদের হতাশা ও ক্ষোভ এখন চরমে।

নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও শোকাবহ স্মৃতি

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৭ সালের ৫ই মার্চ। রাঙামাটি প্রেস ক্লাবে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায় তৎকালীন বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি ও বার্তা সংস্থা আবাসের সাংবাদিক জামাল উদ্দীনকে। এর পরের দিন, অর্থাৎ ৬ই মার্চ, তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয় রাঙামাটি পর্যটন কেন্দ্রের হ্যাডম্যান পাহাড়ের দুর্গম জঙ্গল থেকে। ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারের আলো আজও অধরা রয়ে গেছে।

শুক্রবার কবর জিয়ারত ও মসজিদে বিশেষ মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে স্মরণসভার সূচনা হয়। শনিবার রাঙামাটি রসুলপুর জামে মসজিদে দোয়া ও এতিমখানায় শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। রসুলপুর জামে মসজিদের ইমাম জহির উদ্দীন সকল শহীদ আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাংবাদিকের ছোট বোন ফাতেমা জান্নাত মুমুসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ন্যায়বিচারের দাবিতে স্বজনদের আকুতি

ফাতেমা জান্নাত মুমু গভীর বেদনার সঙ্গে জানান, '২০০৭ সালের এই দিনে আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাহাড়ে ফেলে যাওয়া হয়। দীর্ঘ ১৯টি বছর পার হয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। তবে আমি এখনো আশা ছাড়িনি; আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একদিন এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবেই।'

তিনি সরাসরি নতুন সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, 'আমরা মাননীয় সরকারের কাছে সাংবাদিক জামাল উদ্দীন হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছি। আমরা নিশ্চিত, নতুন সরকার এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনবে।' পাহাড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই বিচারটি অত্যন্ত জরুরি বলে সংবাদকর্মীরা মনে করেন।

আরও পড়ুন