নদীপথে সার পাচারকালে লক্ষ্মীপুরে ৩০০ বস্তা সরকারি সার জব্দ; চক্রের নিয়ন্ত্রককে জরিমানা
লক্ষ্মীপুরে ভোলা-বরিশাল নৌরুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে সার পাচারের গোপন চেষ্টাকালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি সার উদ্ধার করেছে প্রশাসন। সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট ফেরিঘাট এলাকা থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে ৩০০ বস্তা টিএসপি ও ডিএপি সার জব্দ করা হয়। এই চক্রের মূল হোতা দেলোয়ার হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর নৌরুটকে অবৈধ সার পাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছিল বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশের নেতৃত্বে ফেরিঘাট এলাকায় আকস্মিক অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় একটি ইঞ্জিনচালিত লোহার ট্রলারে বোঝাই করা অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ সার হাতেনাতে ধরা পড়ে।
চক্রের নিয়ন্ত্রককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
অভিযানের পর পাচারকাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ স্বীয় ক্ষমতাবলে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেলোয়ার হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার এই সার পাচারকারী চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছিল।
জব্দকৃত সারগুলো সরকারি ভর্তুকি দেওয়া কৃষি উপকরণ, যা কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিতরণের কথা ছিল। পাচারকারীরা অধিক মুনাফার লোভে এই সারগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিল। প্রশাসনের তৎপরতায় সারের এই বিশাল চালানটি রক্ষা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সারের কৃত্রিম সংকট রোধ করা সম্ভব হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জরিমানা করার পাশাপাশি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই সরকারি সার অবৈধ পথে পাচার হতে না পারে এবং কৃষকরা সময়মতো সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারেন। এই অভিযান স্থানীয় কৃষিজীবী মহলে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।