৪০ শতাংশ বৃদ্ধি! রাজধানীতে কিউলেক্স মশার অভূতপূর্ব তাণ্ডব, বিশেষজ্ঞদের চরম হুঁশিয়ারি
আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে রাজধানী ঢাকা এখন কিউলেক্স মশার ভয়াবহ উপদ্রবের শিকার। এই বৃদ্ধি এতটাই উদ্বেগজনক যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন। গত দুই মাসে এডিস মশাবাহিত রোগে চারজনের প্রাণহানি এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শীত কেটে যাওয়াই মশার 'নতুন বসন্ত', গবেষণায় উন্মোচিত
সাধারণত শীতের শেষে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়ে, কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে মশার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারিতে যেখানে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০টি মশা কামড়াতে আসত, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে গড়ে ৮৫০টিতে পৌঁছেছে।
এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা উঠে এসেছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে শহরের ড্রেন, নর্দমা এবং জলাশয়গুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না। স্থির ও দূষিত পানি এই মশাগুলোর বংশবৃদ্ধির আদর্শ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এছাড়া এ বছর শীতের তীব্রতা কম থাকা এবং জানুয়ারির অনুকূল তাপমাত্রা মশার দ্রুত বংশবিস্তারে সহায়তা করেছে।
ভবিষ্যৎ বিপদ: ডেঙ্গুর মহামারী ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কেবল মশা নিধনের পুরাতন পদ্ধতি দিয়ে এই উপদ্রব ঠেকানো সম্ভব নয়। কার্যকরী কীটনাশক প্রয়োগের সফলতা নিশ্চিত করতে হলে মশা, মানবদেহ এবং পরিবেশের ওপর তার প্রভাব নিয়ে সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে এই বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের কঠোর বার্তা হলো, এখনই যদি কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামী মাসগুলোতে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। নাগরিকদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ড্রেন ও জলাশয়ে মশার লার্ভা ধ্বংসে আধুনিক ও সমন্বিত পদ্ধতি প্রয়োগের বিকল্প নেই। সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই এখন মশা প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র।