সর্বশেষ
Loading breaking news...

সাহরির পর ৫টি ক্ষতিকর অভ্যাস যা সুস্থ রোজার জন্য বর্জনীয়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

পবিত্র রমজানে দীর্ঘ উপবাসের পর সাহরির সময়ে গ্রহণ করা খাবার এবং তার পরবর্তী অভ্যাসগুলোই নির্ধারণ করে দেয় রোজাদারের সারা দিনের শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে অজান্তেই আমরা এমন কিছু ভুল করে ফেলি, যা আমাদের শরীরকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। বিশিষ্ট চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সতেজ ও সুস্থ থাকতে সাহরি শেষ হওয়ার পরপরই কিছু অভ্যাসকে জীবন থেকে ছেঁটে ফেলা জরুরি।

খাদ্য হজমের গোপন শত্রু: কেন ঘুম হারাম?

সাহরির পরপরই বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় এবং সাধারণ ভুলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই অভ্যাস পাকস্থলীর অ্যাসিডকে খাদ্যনালীর দিকে ঠেলে দেয়, যার ফলস্বরূপ তীব্র বুক জ্বালাপোড়া, দীর্ঘমেয়াদি হজমের সমস্যা এবং গ্যাস সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার গ্রহণের পর কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় ধরে বসে থাকা অথবা খুব হালকা গতিতে চলাফেরা করা আবশ্যক, যা হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ করে।

অনেকেই তন্দ্রা তাড়াতে এবং সতেজতা ধরে রাখতে সাহরির পর অতিরিক্ত পরিমাণে চা বা কফি পান করে থাকেন। কিন্তু ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় মূত্রত্যাগের হার বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায় এবং দিনের বেলায় তীব্র পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, সাহরির শেষ সময় পর্যন্ত যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য সতর্কতা জরুরি। খালি পেটে নিকোটিন গ্রহণ রক্তে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং সারাদিনের জন্য হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

একইভাবে, সাহরির পরপরই ভারী শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করা উচিত নয়, কারণ এতে রক্তসঞ্চালনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং রোজাদার দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। হালকা স্ট্রেচিং বা নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শরীরকে সচল রাখাই শ্রেয়। শরীরকে অতিরিক্ত চাপের মুখে না ফেলে স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি।

তৃষ্ণার মূল কারণ: তৈলাক্ত খাবারের নেপথ্যের কাহিনি

সুস্থ থাকার লড়াইয়ে সাহরিতে মাত্রাতিরিক্ত তৈলাক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ এক নীরব বিপদ ডেকে আনে। এই ধরনের খাবার গ্রহণে সাহরির পরপরই শরীরে এক ধরনের অস্বস্তি ও অস্থিরতা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, এই খাবারগুলো তৃষ্ণার অনুভূতিকে তীব্রতর করে তোলে এবং লিভারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে, যা রোজার দিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সুস্থ রমজান পালনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সাহরির পরবর্তী মুহূর্তগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

আরও পড়ুন