সর্বশেষ
Loading breaking news...

জীবনযাত্রায় পাঁচটি জাদুকরী পরিবর্তনে হৃদরোগের মরণফাঁদ এড়ানো সম্ভব

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
বর্তমান বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে হৃদরোগ, যা প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এক নীরব ঘাতক হিসেবে। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কেবল হার্টের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তাঁরা শরীরের অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকিতেও ভোগেন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এবং কয়েকটি বিশেষ অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এই মরণব্যাধিকে অনেকটা দূরে রাখা সম্ভব। প্রতিদিনের রুটিনে স্বাস্থ্যকর নিয়ম মেনে চললে হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদে সচল ও সবল রাখা যায়।পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার ও ঘুমের গুরুত্বহৃদযন্ত্রকে সচল রাখতে হলে প্রথমেই নজর দিতে হবে প্রতিদিনের খাবারের প্লেটে, যেখানে সুষম খাদ্যের উপস্থিতি অপরিহার্য। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, বিশেষ করে সবুজ শাক-সবজি ও টাটকা ফলমূলের উপস্থিতি হার্টের সুস্থতার ভিত্তি গড়ে দেয়। এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস শরীরকে বিশ্রাম দেয় এবং হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে আনে।শরীরচর্চায় মিলবে হার্টের সুরক্ষামানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত হাঁটাচলা বা শারীরিক কসরত মানবদেহের সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। অলস জীবনযাপন পরিহার করে নিজেকে কর্মচঞ্চল রাখলে শরীরের বাড়তি মেদ ঝরে যায়, যা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।মানসিক প্রশান্তি ও চাপমুক্ত জীবনআধুনিক জীবনের ইঁদুর দৌড়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির জন্য এককভাবে দায়ী। কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা দুশ্চিন্তা হার্টের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই নিজেকে যথাসম্ভব চাপমুক্ত রাখা জরুরি। মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে মেডিটেশন বা প্রিয় কোনো কাজে সময় ব্যয় করা হৃদরোগ প্রতিরোধের অন্যতম শর্ত। মনকে প্রফুল্ল ও ধীরস্থির রাখতে পারলে তা শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।ধূমপানকে চিরতরে না বলুনহৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে হলে ধূমপানকে চিরতরে 'না' বলতে হবে, কারণ এটি এমন এক মরণনেশা যা তিলে তিলে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন, তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশের মৃত্যুর মূল কারণ এই ধূমপান। এই বিষাক্ত অভ্যাস রক্তনালীতে চর্বি জমতে সহায়তা করে এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। তাই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় ধূমপান পরিহার করা এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন