কক্সবাজারে কলাতলী মোড়ে গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৬ জন দগ্ধ
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রবেশমুখ কলাতলী এলাকায় একটি নবনির্মিত গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে সংঘটিত এই প্রলয়ঙ্করী দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
৩ ঘণ্টার নীরব আতঙ্ক ও প্রলয়ঙ্করী বিস্ফোরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে। ‘এন আলম ফিলিং স্টেশন’ নামের ওই নবনির্মিত পাম্পটি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস নির্গত হয়ে বাতাসে মিশতে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পাম্পটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিমুখর কলাতলী: ফায়ার সার্ভিসের প্রাণপণ লড়াই ও স্থবির জনপদ
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং করে আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকায় আগুন না জ্বালানোর কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজার শহরের প্রধান প্রবেশপথ কলাতলী সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অভিমুখী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে আশপাশের কয়েকটি হোটেলের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে। আহতদের শরীরে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
গ্যাস লাইন বা সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এন আলম ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। রাতভর কলাতলী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে।