চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ কোটি টাকার সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দেড় বছর ধরে অকেজো
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের এক চরম হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু গত দেড় বছর ধরে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়কের অভাবে সুবিশাল এই কাঠামোটি ফসলি মাঠের মাঝখানে যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলী ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
মাঠের মাঝে অকার্যকর সেতুর নিদারুণ বাস্তবতা
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেতুর মূল কাঠামো। অথচ দুপাশে কোনো রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা সেতুর নিচ দিয়ে হেঁটে বা ছোট যানবাহনে করে খাল পার হচ্ছেন। এই অদ্ভুত দৃশ্যটি কেবল একটি নির্মাণ ত্রুটি নয়, বরং স্থানীয়দের নিত্যদিনের যন্ত্রণার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেতুর নিচের পথ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে সেখান দিয়ে যাতায়াতও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা বাধ্য হয়ে মাত্র ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটিকে এড়িয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। এটি কেবল সময় ও শ্রমেরই অপচয় নয়, বরং জরুরি চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে চরম সংকট তৈরি করছে। সেতুর সাথে সাথে সংযোগ সড়কের পরিকল্পনা না থাকা এবং জমি নিয়ে জটিলতা এই উন্নয়ন প্রকল্পকে জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জমিজট ও প্রকল্পের অসম্পূর্ণতা
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর কাচরার খালের ওপর এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯২ হাজার ৩৪৩ টাকা। কিন্তু শুরু থেকেই সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। জমির মালিকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় তারা জমি ছাড়তে রাজি হননি। এই জমিজটের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে সেতুটির কাজ বন্ধ রয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে চলে গেছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেলিম রেজা জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়ায় স্থানীয়দের আপত্তিতে তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং সমস্যার সমাধান হলেই কাজ পুনরায় শুরু করবেন। এদিকে এলজিইডি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেও স্থানীয়দের মনে সংশয় কাটছে না। তারা চান দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হোক।