এক দশকের সম্প্রীতি: কুমিল্লার পীরযাত্রাপুরে শতাধিক পরিবার পেল ইফতার সামগ্রী
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর গ্রামের যুবসমাজ। দীর্ঘ এক দশক ধরে এই গ্রামের একদল নিবেদিতপ্রাণ যুবক, প্রবাসী এবং চাকরিজীবী মিলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের রমজানেও তাঁরা গ্রামের শতাধিক দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার ও সেহরির প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর রমজান মাস এলেই এই গ্রামের যুবকরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হন। তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকে গ্রামের কোনো মানুষ যেন অর্থাভাবে রোজা রাখতে কষ্ট না পায়। প্রবাসী ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতায় তহবিল গঠন করে তাঁরা এই মহৎ উদ্যোগটি পরিচালনা করেন। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা গ্রামটিতে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
স্বেচ্ছাসেবক ও বিশিষ্টজনদের মিলনমেলা
সম্প্রতি আয়োজিত এই বিতরণ অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান। সাবেক ইউপি সদস্য মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. হাসান উল্লাহ। বক্তারা যুবকদের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সমাজের বিত্তবানদের এমন কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাজী মো. নুরুল ইসলাম সর্দার, সাংবাদিক সৌরভ মাহমুদ হারুন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম। তাঁরা বলেন, পীরযাত্রাপুরের যুবকরা প্রমাণ করেছে যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে সমাজের দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব। এই উদ্যোগ এখন আশেপাশের গ্রামগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুরো কার্যক্রমটি সফল করতে এস আই সালাউদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এদের মধ্যে এস আই গিয়াস উদ্দিন, ব্যাংকার আলা উদ্দিন, প্রকৌশলী বদিউল আলম সুমন এবং প্রবাসী হাজী মো. মাইনুদ্দিন অন্যতম। তাঁদের এই নিঃস্বার্থ সেবা ও ত্যাগের মানসিকতা গ্রামের মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে এবং মানবিক মূল্যবোধের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।