কুমিল্লায় 'অভিপ্রায়'-এর আয়োজনে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও গুণীজন সংবর্ধনা
কুমিল্লা নগরীতে সম্প্রতি শিশুদের মনন বিকাশ এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'অভিপ্রায়'-এর উদ্যোগে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা। একই মঞ্চে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই মেলবন্ধন উপস্থিত সুধীজনের প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্ষুদে প্রতিযোগীদের সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশুদের এই পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের মধ্যে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চায় আরও উৎসাহ জোগাবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি শুধু প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে এটি একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আইন অঙ্গনের নক্ষত্রদের সম্মাননা
এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল গুণীজন সংবর্ধনা। কুমিল্লার আইন অঙ্গনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট আইনজীবীকে সম্মাননা জানানো হয়। এর মধ্যে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট মো. তারেক আবদুল্লাহ এবং কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া, কুমিল্লার প্রথম নারী আইনজীবী সামছুন নাহার বেগমকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সচিব সৈয়দ আজাদ সুবহানী। তিনি শিশুদের মেধা বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসান উল্লাহ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক জহিরুল হক দুলাল উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, গুণীজনদের সম্মান জানালে সমাজে নতুন গুণীজন তৈরির পথ সুগম হয়।
অভিপ্রায়-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমল কৃষ্ণ দেবনাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাফর আলী ও কবি শিপন হোসেন মানবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজকরা জানান, 'অভিপ্রায়' ভবিষ্যতেও সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবসেবামূলক কাজে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এই ধরনের উদ্যোগ কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।