অবশেষে জল্পনার অবসান: ময়মনসিংহ-১০ আসনে ধানের শীষের কান্ডারি এবিএম বাচ্চু
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও নাটকীয়তার পর অবশেষে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দলের হাইকমান্ড সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রবীণ নেতা এবিএম বাচ্চুর হাতেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশান কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার হাতে দলীয় মনোনয়ন চিঠি তুলে দেন। এই ঘোষণার ফলে গফরগাঁও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
প্রার্থী মনোনয়নে নাটকীয়তা
গফরগাঁও আসনটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন একাধিক হেভিওয়েট নেতা। গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জনের নাম শোনা যাচ্ছিল, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দলের প্রতি আনুগত্য, জনপ্রিয়তা এবং অতীতের ত্যাগের কথা বিবেচনা করে এবিএম বাচ্চুকেই বেছে নিয়েছে দল। তিনি এলাকায় 'বিপ্লবী নেতা' হিসেবে পরিচিত।
কর্মীদের উল্লাস ও মিছিল
বাচ্চুর নাম ঘোষণার পরপরই গফরগাঁও সদরে হাজার হাজার নেতাকর্মী আনন্দ মিছিল বের করে। তারা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, বাচ্চু ভাই যোগ্য নেতা। তার নেতৃত্বে আমরা গফরগাঁওয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করব। দীর্ঘদিন পর এলাকায় দলীয় কর্মকাণ্ডে এমন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেল।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
এবিএম বাচ্চু এক প্রতিক্রিয়ায় দলের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এই মনোনয়ন আমার একার নয়, এটি গফরগাঁওয়ের প্রতিটি নির্যাতিত নেতাকর্মীর। আমাদের সামনে কঠিন লড়াই। সরকার দলীয় সন্ত্রাস ও কারচুপির জবাব ভোটের মাধ্যমেই দিতে হবে।" তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রতিপক্ষের অবস্থান
এদিকে, বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় সরকারি দলের শিবিরেও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। তারা মনে করছেন, বাচ্চুর মতো জনপ্রিয় নেতা মাঠে থাকায় এবার জয় পাওয়া সহজ হবে না। গফরগাঁওয়ে এবার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশা করছেন সাধারণ ভোটাররা।