সর্বশেষ
Loading breaking news...

আফগান তারকা ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে অংশগ্রহণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করল বোর্ড

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

কাবুলে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বোর্ডের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে আফগান ক্রিকেটাররা বছরে সর্বোচ্চ তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাবেন। মূলত খেলোয়াড়দের কাজের চাপ কমানো এবং জাতীয় দলের প্রতি নিবেদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসিবির এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে থাকা আফগান তারকাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

শারীরিক সক্ষমতা রক্ষার উদ্যোগ

বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, লাগাতার টি-টোয়েন্টি লিগ খেলার ফলে ক্রিকেটাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খেলোয়াড়রা চোটের শিকার হচ্ছেন, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব।" তাই আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের বাইরে মাত্র তিনটি লিগে খেলার এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রশিদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বোর্ডের এই নতুন নিয়মের কারণে সবচাইতে বেশি বিপাকে পড়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পোস্টার বয় রশিদ খান। বর্তমানে তিনি এসএ২০, আইএলটি২০, এমএলসি এবং আইপিএলের মতো নামি লিগগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন এই তারকা লেগ স্পিনারকে নিজের ক্যারিয়ারের বড় আয়ের উৎস হিসেবে পরিচিত এসব লিগের মধ্য থেকে বেছে নিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল রশিদের ক্যারিয়ারের ওপরই নয়, বরং তার আর্থিক আয়ের ওপরও বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্য তারকাদের ওপর প্রভাব

রশিদ খান ছাড়াও মোহাম্মদ নবী, রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং নূর আহমদের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে চাহিদা থাকা খেলোয়াড়দেরও নতুন নীতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য লিগের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া এখন তাদের জন্য এক প্রকার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, একই ধরনের কড়াকড়ি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও তাদের খেলোয়াড়দের ওপর আরোপ করেছে। তারা তাদের ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ দুটি বিদেশি লিগ খেলার অনুমতি প্রদান করে থাকে।

সামনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

কঠোর এই নীতিমালা বাস্তবায়নের মাঝেই আফগানিস্তান জাতীয় দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সিরিজটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এরপরই তারা ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করবে। বোর্ড আশা করছে এই নতুন নিয়ম খেলোয়াড়দের সতেজ রাখবে এবং বিশ্বকাপে দলের সেরা সাফল্য নিশ্চিত করবে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার এই নীতি আফগান ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন