জানুয়ারিতেই ২২০০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: বিদেশে ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পট উদ্ধারে দুদকের সাফল্য
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বছরের শুরুতেই কমিশন এক বিশাল সাফল্যের মুখ দেখেছে। আদালতের নির্দেশে গত জানুয়ারি মাসে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ২,২২১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা আর্থিক অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, জানুয়ারি মাসে আদালতের মোট ২৯টি আদেশের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ২২টি আদেশে সরাসরি সম্পদ ক্রোক এবং ১১টি আদেশে সম্পদ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশনা ছিল। কমিশনের এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের আর ছাড় দেওয়া হবে না, তা সম্পদ দেশের ভেতরেই থাকুক বা বিদেশে পাচার করা হোক।
বিদেশে ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে হানা
দুদকের এই অভিযানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া। জব্দকৃত সম্পদের বড় অংশই বিদেশে অবস্থিত, যার মূল্য প্রায় ২,২১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি ফ্ল্যাট, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্পেস, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইন, ভারত, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরেও ফ্ল্যাট ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ।
দেশের অভ্যন্তরেও অভিযানের গতি ছিল তীব্র। জানুয়ারি মাসে দেশে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৯ একরের বেশি জমি, ৪টি ভবন, ৬টি ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক স্পেস এবং বিলাসবহুল গাড়ি। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের ৭৯টি হিসাবে থাকা প্রায় ৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি বিদেশে বিনিয়োগ করা ১ লাখ মার্কিন ডলারও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
সম্পদ জব্দের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে। এক মাসেই ৪৬৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭৬টি মামলা (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে এবং ১১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। দুদকের এই সাঁড়াশি অভিযান অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের জন্য একটি কড়া বার্তা। কমিশন জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা মেনে জনগণের সম্পদ রক্ষায় তাদের এই আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।