ক্ষুধার্তকে অন্ন না দেওয়ার জন্য স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হবে
মানবতার কল্যাণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশনা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০)। এই আয়াতটি নিছক প্রশংসাবাক্য নয়, বরং এটি মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্বের এক গভীর স্মারক।
সৃষ্টির প্রতি দয়াই স্রষ্টার নৈকট্যের চাবিকাঠি
ইসলামের দৃষ্টিতে সমগ্র সৃষ্টি জগৎ মহান আল্লাহর পরিবারস্বরূপ। তাই আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়ার সহজতম পথ হলো তাঁর সৃষ্টির প্রতি সদয় হওয়া। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন। আল্লাহর কাছে প্রিয় সৃষ্টি হলো সে, যে তার সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করে।’ (বায়হাকি)। এই দয়া ও সহযোগিতার সম্পর্ক দ্বিমুখী। রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, যতক্ষণ কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসে, ততক্ষণ আল্লাহ তার সাহায্যে রত থাকেন।
আর্তমানবতার সেবা না করার পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক চিত্র উঠে এসেছে এক হাদিসে। মহানবী (সা.) বর্ণনা করেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তুমি আমাকে খাদ্য দাওনি। আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম, তুমি আমাকে পানি দাওনি। আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করনি।’ বান্দা তখন বিস্মিত হয়ে বলবে, ‘হে আমার রব! আপনি তো অভাবমুক্ত, আপনি কীভাবে ক্ষুধার্ত বা অসুস্থ হতে পারেন?’
আল্লাহ উত্তরে বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা ক্ষুধার্ত হয়ে তোমার কাছে গিয়েছিল, তুমি তাকে অন্ন দিলে আমাকেই দেওয়া হতো। আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়ে কষ্ট পাচ্ছিল, তার সেবা করলে আমাকেই সেবা করা হতো।’ (মুসলিম)। এই রূপক কথোপকথন মানুষের সেবাকে সরাসরি স্রষ্টার সেবার সমতুল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ইসলামে দুঃস্থ ও অসুস্থ ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোকে কেবল দায়িত্ব নয়, বরং অসামান্য পুণ্যের কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা রোগীকে দেখতে যাও, ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও এবং বন্দিকে মুক্ত কর।’ (বুখারি)। এছাড়াও ইসলাম এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের অধিকারের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। যারা এতিমের হক আদায় করে না এবং মিসকিনদের খাবার দিতে উৎসাহিত করে না, তাদের ভর্ৎসনা করে কোরআনে বলা হয়েছে, তারাই মূলত দ্বীনকে অস্বীকারকারী। (সুরা মাউন, আয়াত ১-৩)।