সর্বশেষ
Loading breaking news...

দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে: এক বছরে ৪০৩ শিক্ষার্থীর করুণ আত্মাহুতি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। এই আত্মহত্যার মিছিলের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি স্কুল পর্যায়ে, যেখানে ১৯০ জন শিক্ষার্থী অকালে ঝরে গেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে 'আঁচল ফাউন্ডেশন' এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ১৬৫টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর বয়সের আবেগীয় অস্থিরতা এবং পারিবারিক যোগাযোগের অভাবই স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মূল কারণ। শিক্ষাস্তরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা জাতীয় জীবনের এক নিদারুণ অপচয়।

আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন নারী এবং ১৫৪ জন পুরুষ শিক্ষার্থী। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হলেও, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেশি। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এমনকি ১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহনন পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভঙ্গুর অবস্থা নির্দেশ করে।

হতাশার নেপথ্য কারণ

আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে যে, হতাশাকে ২৭.৭৯%, অভিমানকে ২৩.৩২% এবং একাডেমিক চাপকে একটি বড় অংশ দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া প্রেমঘটিত কারণ, পারিবারিক টানাপোড়েন, মানসিক অস্থিতিশীলতা এবং যৌন নির্যাতন অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষত স্কুল পর্যায়ে একাডেমিক চাপ শিক্ষার্থীদের ওপর অসহনীয় মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভাগভিত্তিক চিত্রে, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর পর রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হতাশা ও প্রেমঘটিত কারণ বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার হার বেশি। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে জরুরি জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন