শৈলকুপায় সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে চলছে হরিলুট। উপজেলার বিত্তিপাড়া বাজার থেকে রাজাপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে নিম্নমানের দুই নম্বর ইট ও পোড়া মাটি ব্যবহার করছে, যা হাত দিলেই ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে সরকারের দেড় কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রভাবশালীদের দাপট ও হুমকির মুখে জনগন
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, কাঁচেরকোল বাজার টু রাজাপুর ক্যানেল সড়কের এই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৩৮৬ টাকা। কাজটি পেয়েছে ‘মেসার্স ঝিনাইদহ বাজার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, তবে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় কৃষকদল নেতা ওসমান আলীর ভাই ইলিয়াস আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার তার ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় যুবক আপেল মাহমুদ জানান, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ঠিকাদারের লোকজন তাদের মারধর ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
রাস্তার ভিত্তি শক্ত না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক এস এম আকাম উদ্দিন। তিনি বলেন, “এই রাস্তা আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে এক বর্ষাও টিকবে না। আমরা বাধা দিলে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছে।” এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যথাযথ তদারকির অভাবে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত এই উন্নয়ন তাদের ভোগান্তি আরও বাড়াবে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আশ্বাস
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ঠিকাদার ইলিয়াস আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে, নিম্নমানের কোনো উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে না।” তবে সরেজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নিম্নমানের ইটের স্তূপ ও দায়সারা কাজের প্রমাণ মিলছে সহজেই।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “সড়ক নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। যদি কোনো ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”