সর্বশেষ
Loading breaking news...

গাজা থেকে সোমালিল্যান্ডে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ? ইসরায়েলি ‘নীল নকশা’ ঘিরে তোলপাড়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

গাজার ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করে আফ্রিকার সোমালিল্যান্ডে পুনর্বাসনের এক বিতর্কিত ও সুদূরপ্রসারী ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে ইসরায়েল—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে সোমালিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েলি এই পরিকল্পনা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ অপরাধ, যার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ এখন মোগাদিসুর হাতে রয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক দাবার ছকে নতুন চাল

দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকা অঞ্চলের কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষকে জোরপূর্বক অন্য কোনো ভূখণ্ডে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। আহমেদ মোয়ালিম ফিকির মতে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। যদিও ইসরায়েল এবং স্বঘোষিত স্বাধীন রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে, তবুও সোমালিয়ার সরকারি মহলের আশঙ্কা, পর্দার আড়ালে বড় কোনো ষড়যন্ত্র দানা বাঁধছে যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলবে।

স্বীকৃতির আড়ালে বিপজ্জনক শর্ত

১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ড তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিল। গত বছরের শেষের দিকে প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েল তাদের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়, যা সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে মোগাদিসু। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদের দাবি, এই স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড তিনটি বিতর্কিত শর্তে রাজি হয়েছে—ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন, এডেন উপসাগরীয় উপকূলে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ এবং আব্রাহাম চুক্তির ধাঁচে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।

বিভক্তির রাজনীতি ও সার্বভৌমত্বের সংকট

সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মুসলিম দেশকে বিভক্ত করার নীতি গ্রহণ করেছে, আর সোমালিল্যান্ডের এই স্বীকৃতি সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ। তিনি অনতিবিলম্বে ইসরায়েলকে এই স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, সোমালিয়ার অখণ্ডতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। মোগাদিসুর অভিযোগ, তথাকথিত উন্নয়নের লোভ দেখিয়ে সোমালিল্যান্ডকে ব্যবহার করে ইসরায়েল আফ্রিকায় নিজেদের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে।

কূটনৈতিক অবিশ্বাসের কালো মেঘ

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেননি। এই অস্পষ্টতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্দেহের ডালপালা মেলার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই এমন কোনো পরিকল্পনা থাকে, তবে তা কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করবে না, বরং হর্ন অফ আফ্রিকার ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বারুদ ঢেলে দেবে, যার মাশুল দিতে হতে পারে গোটা অঞ্চলকে।

আরও পড়ুন