সর্বশেষ
Loading breaking news...

৮ বিশ্বকাপজয়ী হিলির হঠাৎ বিদায়, ঘরের মাঠে শেষ টেস্ট

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে হঠাৎই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের সফলতম অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। আটটি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবে ভাস্বর এই উইকেটকিপার-ব্যাটার জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে নিজ দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনী সিরিজ খেলার পরই তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের ইতি টানবেন। হিলির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে, যা নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এক বড় ধাক্কা।

ঘরের মাঠে বিদায়ের পরিকল্পনা

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে হিলি হয়তো আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই অবসর নেবেন। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা সেই পরিকল্পনা বদলে দিয়ে দেশের মাটিতে সমর্থকদের সামনেই শেষ ম্যাচ খেলার আবেগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওয়ানডে সিরিজের পর পার্থে অনুষ্ঠিত দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচটিই হবে তার শেষ আন্তর্জাতিক লড়াই, এবং নতুন নেতৃত্বকে প্রস্তুত করার সুযোগ দিতে তিনি আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেবেন না।

হাসির আড়ালে কঠিন বাস্তবতা

অবসরের কারণ দর্শাতে গিয়ে প্রথমে হাস্যরস সৃষ্টি করে হিলি বলেন, সঙ্গী মিচেল স্টার্কের কাছে গলফে হেরে যাওয়ার পর তাতে উন্নতি করার জন্য তিনি ক্রিকেট থেকে বিরতি নিতে চান। তবে এই হালকা চালের আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক টানাপোড়েনের এক কঠিন সত্য। হিলি স্বীকার করেছেন যে, বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রিকেট তার মানসিক শক্তিকে অনেকাংশে নিঃশেষ করে দিয়েছে এবং বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্তটি নেওয়ার কথা ভাবছিলেন।

ক্লান্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব

হিলি স্পষ্ট জানান, ক্রমাগত চোট এবং মানসিক অবসাদের কারণে নিজেকে শতভাগ উজাড় করে দেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। তিনি সবসময়ই মাঠে সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাব নিয়ে নামতে চেয়েছেন এবং জেতার জন্য লড়তে চেয়েছেন, কিন্তু বয়সের কারণে সেই প্রবল তাড়না কিছুটা হলেও কমে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। যদিও খেলার প্রতি ভালোবাসা পুরোপুরি যায়নি, তবুও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছিল।

পরিসংখ্যানের পাতায় সোনালী অধ্যায়

অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে হিলি ১০টি টেস্ট, ১২৩টি ওয়ানডে এবং ১৬২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এবং তার নেতৃত্বে দল জিতেছে ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। উইকেটের সামনে ও পেছনে অসংখ্য রেকর্ড গড়া এই ক্রিকেটার দুইবার আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারের শিরোপা জিতেছেন এবং তার আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলী নারী ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার ভাবনা থাকলেও শেষমেশ ঘরের মাঠে পরিবার ও ভক্তদের সামনে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তই তার কাছে শ্রেষ্ঠ মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন