সর্বশেষ
Loading breaking news...

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে অ্যামাজন আরও ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে চলমান কাঠামোগত পরিবর্তনের মাঝে ফের বৃহৎ আকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিল মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজন। সাংগঠনিক জটিলতা হ্রাস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের অংশ হিসেবে এবার আরও ১৬ হাজার কর্মীকে বিদায় জানাতে চলেছে সংস্থাটি। এই নতুন ঘোষণার ফলে সব মিলিয়ে অ্যামাজনের কর্পোরেট স্তর থেকে মোট ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

কর্পোরেট কাঠামোর কোপ

এই ১৬ হাজার কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তটি গত বছর ঘোষিত ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনারই পরবর্তী ধাপ। এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করে অ্যামাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গালেত্তি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো—‘চাকরির অতিরিক্ত স্তর হ্রাস করা, কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পুরোপুরি দূর করা।’

ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে এআই

যদিও অ্যামাজনের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ, তবে এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব মূলত ডিস্ট্রিবিউশন বা ওয়্যারহাউস কর্মীদের ওপর পড়বে না। বরং সংস্থার সাড়ে তিন লাখ কর্পোরেট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশকেই এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। অ্যামাজনের আর্থিক বিবৃতি অনুসারে, পরিকল্পিত ছাঁটাইয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ কোম্পানিটির প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি অ্যামাজন তাদের ২০২৫ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ফল প্রকাশ করবে।

অ্যামাজনের এই সিদ্ধান্তটি বৃহত্তর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক পদ কমানোর চলমান প্রবণতারই একটি অংশ। মহামারীর সময় অতিরিক্ত নিয়োগের কারণে মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরাও সম্প্রতি ব্যাপক ছাঁটাই করেছে।

অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বাজেট সংকটের কারণে নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকার, বিশেষ করে এআই এবং ক্লাউড পরিষেবা খাতে পুঁজি স্থানান্তরের জন্যই নেওয়া হচ্ছে। মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউডের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে কোম্পানিটি।

আরও পড়ুন