সর্বশেষ
Loading breaking news...

অর্থনীতিতে গণতন্ত্র ফেরানোর আহ্বান আমীর খসরুর আমলাতন্ত্রকে কড়া বার্তা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রাজনীতির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত দূরীকরণ আবশ্যক। বুধবার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় ১৫তম গ্যাপেক্সপো-২০২৬ ও গার্মেনটেক বাংলাদেশ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ একটি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণাধীন (অতিনিয়ন্ত্রিত) দেশ। এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পৃষ্ঠপোষকতার জাল ছিঁড়ে ব্যবসার সহজ পথ

জনাব চৌধুরী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে কাউকে বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সকল ব্যবসায়ী যেন সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন, ব্যবসা পরিচালনা সহজ ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমলাতন্ত্রের সরাসরি যোগাযোগের পথ ভবিষ্যতে সীমিত করা হবে। এই প্রক্রিয়াকে মসৃণ করতে সকল কার্যক্রম ধীরে ধীরে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

ভোগান্তি কমাতে এনবিআর-এর আশ্বাস

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। তিনি ব্যবসায়ীদের অবদান স্বীকার করে বলেন, ব্যবসায়ীরা নানা ঝুঁকি নিয়ে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। জনাব খান আশ্বস্ত করেন, ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে সরকার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি হয়রানিমুক্ত এবং গতিশীল বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ডিজিটাল সমাধানই কি শেষ কথা

তিনি তুলে ধরেন যে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তাদের দমিয়ে দেয়। উদ্যোক্তাদের প্রায়শই একাধিক স্তরের অনুমোদন এবং ছাড়পত্রের মুখোমুখি হতে হয়, যা বিলম্ব এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হয়। এই আমলাতান্ত্রিক বাধা নতুন বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে এবং বিদ্যমান ব্যবসার সম্প্রসারণকে কঠিন করে তোলে। তিনি যুক্তি দেন যে বর্তমান ব্যবস্থা কেবল সু-সংযুক্ত ব্যক্তিদের উন্নতি করতে সাহায্য করে, যা ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে ক্ষুণ্ণ করে।

সহায়ক পরিবেশের দিকে অগ্রসর

এটি মোকাবেলার জন্য, জনাব চৌধুরী নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন, এমন একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন যা ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করার পরিবর্তে সমর্থন করে। তিনি ব্যবসায়িক নিয়মকানুনে স্বচ্ছতা এবং পূর্বাভাসযোগ্যতার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। ডিজিটালাইজেশন এবং প্রক্রিয়াগুলি সুগম করার মাধ্যমে, লক্ষ্য হল এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করা যেখানে ব্যবসাগুলি সহজে পরিচালনা করতে পারে, যা বৃহত্তর অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে উৎসাহিত করে এবং জাতীয় সমৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

আরও পড়ুন