সর্বশেষ
Loading breaking news...

অ্যাপল-গুগলের ঐতিহাসিক মহাজোট আইফোনকে দেবে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল এবার তাদের পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন ও ডিভাইসগুলোতে গুগলের শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'জেমিনি' যুক্ত করতে চলেছে। দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর এই ঐতিহাসিক জোট অ্যাপলের নিজস্ব ইকোসিস্টেমের গণ্ডি ভেঙে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে অ্যাপলের ডিজিটাল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট 'সিরি' আরও উন্নত ও আধুনিক হয়ে উঠবে, যা ব্যবহারকারীদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।

যুগান্তকারী অংশীদারিত্বের ঘোষণা

সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে এই দুই টেক জায়ান্ট তাদের বহু বছর মেয়াদী অংশীদারিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মহাপরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে গুগলের 'জেমিনি' মডেল। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং পারপ্লেক্সিটির মতো বিকল্পগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের পরই অ্যাপল গুগলের প্রযুক্তিকে তাদের লক্ষ্যের জন্য 'সবচেয়ে উপযুক্ত' হিসেবে রায় দিয়েছে। স্মার্টফোন বাজারে তীব্র প্রতিদ্বন্দী হওয়া সত্ত্বেও এমন কৌশলগত জোট প্রযুক্তি বিশ্বে বিরল।

বাজারের সমীকরণ ও সমালোচনার ঝড়

তবে এই নতুন সখ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিচার বিভাগ মনে করছে, এটি গুগলের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারে সহায়ক হতে পারে। প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে একে 'প্রতিযোগিতাবিরোধী' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি গুগলকে এআই জগতেও বিপজ্জনকভাবে শক্তিশালী করে তুলবে। তবে সমালোচনার পাশাপাশি শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে; গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ৪ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

গোপনীয়তা ও সুরক্ষার আশ্বাস

সমালোচকদের উদ্বেগ সত্ত্বেও, অ্যাপল গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছে যে তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। ডিভাইস পর্যায়ে তাদের নিজস্ব 'অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স' ব্যবস্থাটি সক্রিয় থাকবে, যা ব্যবহারকারীর তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এই দ্বৈত পদ্ধতির মাধ্যমে অ্যাপল একদিকে যেমন অত্যাধুনিক এআই সুবিধা প্রদান করবে, তেমনি ব্যবহারকারীদের ডেটার গোপনীয়তা বজায় রাখবে।

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ও নতুন ধারা

এই অংশীদারিত্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলোও সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করবে। আগামী প্রজন্মের ডিভাইসগুলোতে জেমিনির অন্তর্ভুক্তি সিরির কার্যকারিতা বাড়াবে এবং ব্যবহারকারীদের আরও স্বজ্ঞাত অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। এই মহাজোটের ফলে প্রযুক্তি বিশ্বে প্রতিযোগিতা এবং সহযোগিতার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন