সর্বশেষ
Loading breaking news...

হেলিকপ্টারের সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে 'পেগাসাস' উন্মোচন করল এআরসি অ্যারোসিস্টেম

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

প্রযুক্তির চিরাচরিত নিয়ম মেনেই পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনের আগমন ঘটে। এই ধারার ব্যতিক্রম নয় হেলিকপ্টারও। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এআরসি অ্যারোসিস্টেম (ARC AeroSystems) 'পেগাসাস' নামক এক আকাশযান তৈরি করেছে, যা হেলিকপ্টারের বিকল্প হিসেবে পরিবহন দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটাতে প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক আগের একটি পরীক্ষিত প্রযুক্তিকে আধুনিকতার মোড়কে ফিরিয়ে এনেছে, যা সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব।

আধুনিক প্রযুক্তিতে পুরোনো নকশা

এআরসি অ্যারোসিস্টেমের প্রধান নির্বাহী ড. সাইয়্যেদ মোহসেনি জানিয়েছেন, তারা মূলত ষাটের দশকের একটি বিস্মৃত নকশা— ‘অ্যাভিয়ান ২/১৮০’ মডেলকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। পেগাসাসের প্রধান রোটরটি ইঞ্জিনের বদলে বাতাসের চাপের সাহায্যে ঘোরে, ফলে যান্ত্রিক জটিলতা কমে এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাস পায়। এটি সাধারণ জাইরোকপ্টারের মতো রানওয়ের ওপর নির্ভর না করে অনেকটা লাফ দিয়ে সরাসরি আকাশে উড়াল দিতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশেষত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এই যানটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। যদিও এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, তবুও এটি বর্তমানের প্রায় ৯০ শতাংশ হেলিকপ্টার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। পেগাসাসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা; মাঝ আকাশে ইঞ্জিন বিকল হলেও এর পাখাগুলো প্যারাসুটের মতো কাজ করে যানটিকে নিরাপদে নামিয়ে আনতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস সায়েন্সের শিক্ষক ড. ডগলাস থমসনের মতে, যাত্রী সংখ্যা বাড়াতে গেলে এর রোটরের আকার অস্বাভাবিক বড় করতে হতে পারে এবং পাইলটদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে। এত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা জরুরি পণ্য পরিবহনে এটি বিশেষ কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো, ২০২৬ সালের মধ্যে বড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এই আকাশযানটি চালু করা।

আরও পড়ুন