অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজয়ের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পোল্যান্ডের তারকা টেনিস খেলোয়াড় ইগা সিওনতেক। ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলো তার প্রশ্ন—‘আমরা টেনিস খেলোয়াড়, নাকি চিড়িয়াখানার পশু?’ খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসরে অত্যধিক নজরদারি এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এই ছয়বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী। কোয়ার্টার ফাইনালে এলিনা রিবাকিনার কাছে সরাসরি সেটে (৫-৭, ১-৬) পরাজিত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে সিওনতেকের কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট হতাশা। তিনি অভিযোগ করেন, টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ওপর এমন কড়া নজর রাখা হচ্ছে, যেন তারা সাধারণ মানুষ নন।
ব্যক্তিগত পরিসরে ক্যামেরার দৃষ্টি
সিওনতেক সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আমি বুঝতে পারছি না, আমরা কি টেনিস খেলোয়াড় নাকি চিড়িয়াখানার প্রাণী? যাদের প্রতি মুহূর্তে চোখে চোখে রাখা হচ্ছে, এমনকি শৌচাগারে গেলেও!” পোলিশ তারকা কটাক্ষের সুরে যোগ করেন, “হয়তো একটু বেশি বলে ফেললাম, কিন্তু কিছু বিষয় ব্যক্তিগত থাকা আবশ্যক। নিজের মতো করে কিছু করার সুযোগ থাকা উচিত, সবকিছু বিশ্ববাসীকে দেখানোর প্রয়োজন নেই।” অপ্রত্যাশিত হারের বেদনা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবই যেন তার এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জন্ম দেয়।
পরিচয়পত্র বিতর্ক ও গোপনীয়তা
এই ঘটনার কিছুদিন আগেই পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকায় মেলবোর্ন পার্কে প্রবেশ করতে না পারার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে সিওনতেক বলেন, “আমরা খেলোয়াড়, আমাদের কাজ টেনিস খেলা। কোর্টে এবং সাংবাদিক বৈঠকে মানুষ আমাদের দেখবেই, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু পরিচয়পত্র আনতে ভুলে যাওয়া নিয়ে কি মিম তৈরি করা হবে!” খেলোয়াড়দের পেশাগত জীবনের বাইরেও যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার থাকা উচিত, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
কোকো গফের অভিজ্ঞতা
শুধুমাত্র সিওনতেক নন, ব্যক্তিগত পরিসরে নজরদারির বিষয়টি নিয়ে এবার কণ্ঠ মেলালেন আমেরিকার খেলোয়াড় কোকো গফও। তৃতীয় বাছাই এই খেলোয়াড় কোয়ার্টার ফাইনালে হারার পর স্টেডিয়ামের ভিতরে হতাশায় একটি র্যাকেট ভেঙে ফেলেন। গফ জানান, তিনি ভেবেছিলেন এমন জায়গায় তিনি একা আছেন এবং কোনো ক্যামেরা নেই, কিন্তু সেই ভাঙার দৃশ্যও সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে।
র্যাকেট ভাঙার মুহূর্তও সম্প্রচারিত
তিনি হতাশার সঙ্গে বলেন, “খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে এখানে কিছুই অবশিষ্ট নেই।” এই খেলোয়াড়দের ক্ষোভ টুর্নামেন্ট আয়োজকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের টেনিস ইভেন্টগুলোতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্পেস নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।