শ্রমিক হত্যায় এবার আইভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: আদালতে ধাক্কা খেলেন সাবেক মেয়র
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী বৈষম্যবিরোধী এক আলোচিত হত্যা মামলায় নতুন করে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটা এক শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালত তার বিরুদ্ধে করা গ্রেপ্তারি আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইভীর আইনি লড়াইয়ে আরও একটি বড় ধাক্কা লাগলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
চাঞ্চল্যকর সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় আদালতের হস্তক্ষেপ
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন উভয় পক্ষের বক্তব্য ও শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইন্টিরিয়র মিস্ত্রী সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই চট্টগ্রামের রোড এলাকার ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নিচতলায় ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যাতে সেলিম মণ্ডলসহ তিনজন শ্রমিক প্রাণ হারান।
আইনজীবীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও আইভীর আইনি ইতিহাস
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন আদালতে জোরালোভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে আইভী এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে এজাহারকারী অবশ্যই তার নাম উল্লেখ করতেন। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য যে, এর আগে ফতুল্লা ও সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন।
পূর্বের গ্রেপ্তার এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ
সেলিনা হায়াৎ আইভী এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গত বছরের ৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের নভেম্বরে হাইকোর্ট তাকে পাঁচটি মামলায় জামিন দিলেও, আপিল বিভাগ সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেয়।
এর পরপরই তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। বর্তমান মামলাটি তার আইনি লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিল।