গ্রেপ্তার হয়েই ‘সেলফি’ পোস্ট, যুবলীগ নেতার কাণ্ডে তোলপাড় রংপুর
রংপুরের বদরগঞ্জে এক অদ্ভুত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাস্যোজ্জ্বল সেলফি পোস্ট করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন তিনি। ‘আমাকে পুলিশ ধরল’—এমন ক্যাপশনে পোস্ট করা ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে ও নেটিজেনদের মাঝে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
‘ডেভিল হান্ট’ ও সেলফি নাটক
গ্রেপ্তারকৃত হুমায়ুন কবির লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। বুধবার দুপুরে ‘ডেভিল হান্ট’ নামক বিশেষ অভিযানে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরেই তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ওই বিতর্কিত সেলফিটি পোস্ট করা হয়, যা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল বলে মনে করছেন অনেকে।
ওসির বক্তব্যে রহস্যের ইঙ্গিত
পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন কীভাবে একজন আসামি ফেসবুকে পোস্ট দিতে পারেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এটা কোন জায়গায় তুলে দিল, আমি তো বুঝতে পারলাম না। ও কীভাবে দেবে, ওর স্ত্রী হয়তো দিয়েছে।” ওসির এই মন্তব্যে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে এবং প্রকৃত পোস্টদাতা কে, তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
মুহূর্তেই ভাইরাল ও ডিলিট
ফেসবুকে পোস্টটি আসার পরপরই কমেন্ট বক্সে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন সাধারণ মানুষ। পুলিশি হেফাজতে আসামির এমন আচরণে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। যদিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে কিছুক্ষণ পরেই পোস্টটি আইডি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ততক্ষণে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে।
আইনি ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি
সন্ত্রাস দমন আইনের সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হুমায়ুন কবিরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তারের পর সেলফি পোস্টের এই ঘটনা রংপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।