চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রূপকথা: ডর্টমুন্ডের স্বপ্ন চূর্ণ করে আটালান্টার অবিশ্বাস্য উত্থান
প্রথম লেগে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। তবে ফুটবল যে চরম অনিশ্চয়তার খেলা, তা আরও একবার প্রমাণ করল আটালান্টা। ফিরতি লেগে বিধ্বংসী ফুটবল খেলে ডর্টমুন্ডের জালে একে একে চারবার বল জড়িয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানের এক রুদ্ধশ্বাস জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে তারা।
প্রত্যাবর্তনের অলৌকিক আখ্যান
ম্যাচের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে স্বাগতিক আটালান্টা। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় জিয়ানলুকা স্কামাক্কার দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় তারা। এই আচমকা আঘাতে কিছুটা ভড়কে যায় ডর্টমুন্ড রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আরও একটি গোল আদায় করে নেয় ইতালিয়ান দলটি, ফলে বিরতির আগেই দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতা ফিরে আসে।
শেষ মুহূর্তের মহানাটক ও স্নায়ুযুদ্ধ
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আটালান্টা। দশ মিনিটের মধ্যেই মারিও পাসালিক গোল করে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন। তবে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে কারিম আদেয়েমি ডর্টমুন্ডের হয়ে একটি গোল পরিশোধ করলে নাটকীয় মোড় নেয় খেলা। সেই মুহূর্তে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ৩-৩ এ দাঁড়ায় এবং ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে গড়াচ্ছিল।
কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ডর্টমুন্ডের র্যামি বেনসেবাইনি, যার খেসারত হিসেবে তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে লাজার সামারজিক ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আটালান্টা শিবির। এই অবিশ্বাস্য জয়ে তারা পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত করে।
আগামী শুক্রবারের ড্রতে আটালান্টার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে আর্সেনাল কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ। ডর্টমুন্ডের মাঠের দাপট শেষ পর্যন্ত ইতালিয়ানদের অদম্য মানসিকতার কাছে ম্লান হয়ে গেছে। ফুটবল বিশ্ব এখন আটালান্টার এই রূপকথার জয় নিয়ে চর্চায় মত্ত।