সর্বশেষ
Loading breaking news...

পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরিতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্প অস্ট্রেলিয়ার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিল অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক 'এইউকেইউএস' (AUKUS) চুক্তির আওতায় নিজস্ব নৌবাহিনীকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বহরে সজ্জিত করার লক্ষ্যে বিশাল বিনিয়োগ শুরু করেছে দেশটি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে একটি অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অস্ট্রেলীয় সরকার এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩.৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বরাদ্দ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে প্রকল্পের প্রথম কিস্তি বা 'ডাউন পেমেন্ট' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা এই সাবমেরিন নির্মাণ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

পরমাণু শক্তি চালিত বহরের দিকে অস্ট্রেলিয়ার রণকৌশল

এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো অস্ট্রেলিয়ার পুরনো সাবমেরিন বহরকে আধুনিকীকরণ করে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করা। ২০২৭ সাল থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু সাবমেরিন অস্ট্রেলীয় জলসীমায় অবস্থান শুরু করবে। ২০৩০ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ভার্জিনিয়া-শ্রেণীর সাবমেরিন ক্রয়ের পরিকল্পনা করেছে।

চূড়ান্ত ধাপে, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির সাবমেরিন নির্মাণ করা হবে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া এই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে অগ্রসর হচ্ছে যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলে দেবে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাব

এই বৃহৎ শিপইয়ার্ড প্রকল্প কেবল সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে না, বরং অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দশক ধরে এই প্রকল্পে হাজার হাজার মানুষের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই বিনিয়োগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন ঐতিহাসিক দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

আরও পড়ুন