বিশ্বকাপের ধাক্কা সামলানোর আগেই বড় প্রশ্ন: অলিম্পিক্সে অনিশ্চিত স্মিথ-হেডদের অস্ট্রেলিয়া!
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিপর্যয়কর বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মহলে নেমে এসেছে গভীর সংকট। তুলনামূলক দুর্বল গ্রুপে থেকেও নকআউট পর্বে প্রবেশ করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। জিম্বাবুয়ে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু এই হতাশার ঢেউয়ের মধ্যেই সামনে চলে এসেছে আরও একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ— ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন পর্বে স্টিভ স্মিথ, ট্র্যাভিস হেডদের অংশগ্রহণ আদৌ নিশ্চিত কিনা।
ক্রিকেটের অলিম্পিক ফেরা: যোগ্যতা নির্ণয়ের অদৃশ্য সিঁড়ি
প্রায় ১২৮ বছর পর অলিম্পিকের মঞ্চে ফিরতে চলেছে ক্রিকেট। লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে টি-টোয়েন্টি বিন্যাসে ছয়টি দল অংশ নেবে বলে জানা গেছে। আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। বাকি পাঁচটি দলের স্থান মহাদেশভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়া অথবা আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) এখনও চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জনের নিয়মাবলী প্রকাশ করেনি, তবে ক্রিকেট বিশ্ব প্রস্তুত হচ্ছে সম্ভাব্য কাঠামোর জন্য।
র্যাঙ্কিংয়ের নিম্নমুখী সরণি: কিউইদের উত্থান বনাম অজিদের অবনমন
যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অথবা সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়, তবে অস্ট্রেলিয়া এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পারে। গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ায় তাদের র্যাঙ্কিংয়ে অবনমন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে, নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারলে নিউজিল্যান্ড সরাসরি অলিম্পিক্সে সুযোগ পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করবে, যা অস্ট্রেলিয়াকে র্যাঙ্কিংয়ে টপকে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সেক্ষেত্রে, স্মিথ-হেডদের অলিম্পিক স্বপ্ন পূরণের জন্য দ্বিতীয় সারির দলগুলোর সঙ্গে কঠিন বাছাইপর্বের লড়াইয়ে নামতে হতে পারে।
অগ্নিপরীক্ষা সামনে: র্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে কঠিন সূচি অস্ট্রেলিয়ার
এই অনিশ্চয়তা দূর করতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো প্রয়োজন ক্যাঙ্গারুদের। আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া ২০২৬ সালে মোট ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ রয়েছে। এই আসন্ন সিরিজগুলিতে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করতে পারলেই কেবল র্যাঙ্কিংয়ে তারা নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে এবং অলিম্পিকের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত রাখার আশা বাঁচিয়ে রাখতে পারবে।