ইরান-মার্কিন সংঘাতের মাঝে ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৮টি ড্রোন ঠেকানোর দাবি বাহরাইনের
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে তারা সফলভাবে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। এই ঘটনাটি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংকট শুরু হওয়ার পর বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেনারেল কমান্ড একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, ইরান সমর্থিত শক্তির আক্রমণ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তাদের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল করা হয়েছিল। বাহরাইনের দাবি অনুযায়ী, তারা এ পর্যন্ত ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৪৮টি মনুষ্যবিহীন উড়োজাহাজ বা ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
লক্ষ্যবস্তু ও সামরিক কৌশল
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের পাল্টা আক্রমণের জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোই ছিল মূলত এই হামলার লক্ষ্যবস্তু। বাহরাইনের এই সফল ইন্টারসেপশনের দাবি পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে, কৌশলগত পশ্চিমা স্থাপনাগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাহরাইনের সামরিক বাহিনীর এই তথ্য আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামলার এই সংখ্যা সংঘাতের ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে যা আগের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বাহরাইনের এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য প্রমাণ করে যে তারা যেকোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় উচ্চ সক্ষমতা রাখে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। বাহরাইনের পক্ষ থেকে তাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার ঘোষণা দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই মুহূর্তে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে যেন মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।