বাকেরগঞ্জে পোষা বিড়ালের পা কাটল প্রতিবেশী থানায় অভিযোগ দায়ের
বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি পোষা বিড়ালের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশী দম্পতির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিড়ালটির পা ভেঙে যায়। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ তানিয়া বেগম বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাতের আঁধারে অবলা প্রাণীর ওপর এমন হামলায় স্থানীয় পশুপ্রেমীদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
নৃশংস হামলার লোমহর্ষক বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে অভিযুক্ত আইউব মৃধা ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম অতর্কিত হামলা চালায়। তানিয়ার পোষা বিড়ালটিকে লক্ষ্য করে প্রথমে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হলেও তারা সেখানেই ক্ষান্ত হননি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত আইউব "ধারালো দা" দিয়ে বিড়ালটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ বসালে তার ডান পাশের পেছনের পা ভেঙে যায়। প্রতিবাদ করায় তানিয়া বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় ওই দম্পতি।
চিকিৎসকের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
গুরুতর আহত বিড়ালটিকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সালেহ আল রেজা নিশ্চিত করেছেন যে বিড়ালটির আঘাত কোনো সাধারণ লাঠির নয় বরং ধারালো অস্ত্রের। তিনি জানান, বিড়ালটির পা পুরোপুরি সুস্থ হতে এবং স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। বর্তমানে বিড়ালটির চিকিৎসা চলছে এবং এর "রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে" আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পুরোনো শত্রুতা ও অতীত অপরাধ
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত আইউব মৃধা দীর্ঘদিন ধরেই এমন হিংস্র ও পশুবিরোধী মানসিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। এর আগেও গত বছর তানিয়া বেগমের আরেকটি পোষা বিড়ালকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আপোষ-মীমাংসা হলেও আইউবের স্বভাব পরিবর্তন হয়নি। পুরোনো শত্রুতার জেরে "পরিকল্পিতভাবেই" এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন প্রতিবেশীরা।
আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রাজু আহমেদ বুধবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে বেশ কিছু তথ্য ও প্রমাণ সংগৃহীত হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে "কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা" গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।