মানি চেঞ্জারদের লাইসেন্স নবায়ন ফি দ্বিগুণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পর মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নবায়ন ফি এক লাফে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এতদিন এই ফি নামমাত্র থাকলেও নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যবসায়ীদের এখন বাড়তি অর্থ গুনতে হবে। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে নতুন এই ফি কার্যকর হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নতুন ফি নির্ধারণ ও কার্যকারিতা
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এতদিন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের বার্ষিক নবায়ন ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা জমা দিতে হতো যা অফেরতযোগ্য। তবে সংশোধিত নিয়মে এই ফি বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০২ সালে মানি চেঞ্জারদের লাইসেন্স নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই ফিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ২৩ বছর পর এই ফি পুনর্নির্ধারণ করা হলো। তবে লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য শর্তাবলি আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে বলে সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর বার্তা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। "বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ফি অপরিবর্তিত থাকায় এই খাতের গুরুত্ব কিছুটা ম্লান হয়েছিল।" ফি বৃদ্ধির ফলে মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ীদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও হঠাৎ ফি দ্বিগুণ করায় ব্যবসায়ীদের একটি অংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা
নতুন নির্ধারিত ফি আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্ধারিত তারিখের পর থেকে পুরনো ফিতে আর কোনো লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও খোলা বাজারের ডলার সংকট মোকাবিলায় মানি চেঞ্জারগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই আর্থিক সংস্কার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।