সর্বশেষ
Loading breaking news...

দুর্নীতি ও দুবাইয়ে ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারির অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের পদত্যাগ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের ব্যাংক খাতকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়ে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব নিলেও নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়া ও দুবাইয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার মতো গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তার এই বিদায় দেশের অর্থনীতিতে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ব্যর্থ সংস্কার ও অর্থনীতির কঙ্কালসার দশা

প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর অর্থপাচার রোধে ১১টি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও ড. মনসুর কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখাতে পারেননি। উল্টো নীতি সুদহার ১০ শতাংশ এবং ঋণের সুদ ১৬ শতাংশে উন্নীত করায় ব্যবসা ও শিল্প খাত কার্যত ধুঁকছে। তার কঠোর অথচ দিকভ্রান্ত পদক্ষেপে পুঁজিবাজারে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং নতুন বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

দুবাইয়ের বিলাসী সাম্রাজ্য ও বিদেশের সফর

অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দুবাইয়ের আল জাদ্দাফ এলাকায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের দলিলে মালিক হিসেবে তার ও তার মেয়ের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনের মাত্র ১৪ মাসে তিনি ১৪ বার বিদেশ সফর করেছেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ড. মনসুরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। গুঞ্জন রয়েছে, বিএফআইইউ-এর গোপনীয় তথ্য পাচার করার জন্য তার অন্দরমহলে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতি তোয়াক্কা না করে দুই কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কেনা নিয়েও তিনি সমালোচিত হয়েছেন।

সব মিলিয়ে, ব্যাংক খাতের সংস্কারের স্বপ্ন দেখিয়ে এলেও ড. মনসুরের মেয়াদ শেষ হলো এক করুণ চিত্রের মাধ্যমে। অর্থনীতির এই সংকটকালীন সময়ে তার পদত্যাগ ব্যাংকিং খাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সরকার এখন নতুন গভর্নর নিয়োগের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন