রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলেও অর্থনীতিতে চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: অক্সফোর্ড ইকোনমিকস
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমলেও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি স্কোর ৭.১-এ উন্নীত হয়েছে। এই স্কোর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় ঝুঁকি স্কোর ৫.১-এর চেয়ে অনেক বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরাতে পারে।
বাণিজ্যঋণ ও ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে 'বাণিজ্যঋণ' সূচকে বাংলাদেশ ১০-এর মধ্যে ১০ স্কোর পেয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ এবং ব্যাংক খাতের দুর্বল তদারকি ব্যবস্থাকে এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বাজারের ব্যয়ের সূচকেও বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকিতে (স্কোর ৮) রয়েছে। উচ্চ সুদের হার এবং খেলাপি ঋণের চাপ বাজারের চাহিদাকে সংকুচিত করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা সাময়িকভাবে কাটলেও নীতিগত চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনিশ্চয়তা বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একমুখী রেমিট্যান্স নির্ভরতাও দেশের জন্য একটি বড় ঝুঁকি।
মুদ্রাস্ফীতি এবং রিজার্ভ সংকটের বিষয়েও সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮.৬ শতাংশে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রাখলেও বাজারের তারল্য সংকট কাটছে না। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে মাত্র চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা আইএমএফ-এর নির্ধারিত সীমার নিচে।
ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস কাটছাঁট করেছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সংস্কার প্রক্রিয়া সফল হলে প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশে ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তৈরি পোশাক রপ্তানি কমা এবং বিশ্ববাজারে চাহিদার হ্রাস বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।