দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) এবার প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্তের অলঙ্কার কেনার স্বপ্ন এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের সরবরাহ ও মূল্যের ব্যাপক তারতম্য ঘটায় এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত মূল্য মঙ্গলবারও সারাদেশে বহাল থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই স্বর্ণের এই নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে, যা সোমবার সকাল থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই ঘন ঘন দাম পরিবর্তন বৈশ্বিক প্রবণতা দ্বারা প্রভাবিত একটি অত্যন্ত অস্থির বাজারের প্রতিফলন।
দামের অংকের জটিল সমীকরণ ও রুপার স্থিরতা
নতুন দরের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকায় বিক্রি হবে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও পিছিয়ে নেই, যা প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ দ্রষ্টব্য হলো: নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকারি ভ্যাট এবং অন্তত ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। স্বস্তির বিষয় এই যে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে এখনও কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৬ হাজার ৭০৭ টাকাতেই স্থির রয়েছে।
চলতি বছরের অস্থির রেকর্ডের একাল-সেকাল
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১২ বার দাম কমানো হয়েছে। স্বর্ণের বাজারে এমন বারবার পরিবর্তন দেশের জুয়েলারি শিল্পে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বারবার দাম বাড়ার এই প্রবণতা উৎসব-পার্বণের কেনাকাটায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
ভোক্তাদের উপর প্রভাব ও ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
স্বর্ণের মূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করে, কারণ তাদের কাছে সোনা কেবল অলঙ্কার নয় বরং প্রায়শই একটি বিনিয়োগ বা ঐতিহ্যের প্রতীক। অনেকে এখন তাদের কেনাকাটা পুনর্বিবেচনা করছেন বা বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। বাজারের অস্থিরতা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের উপরও চাপ সৃষ্টি করে, যারা অস্থির চাহিদার মধ্যে স্টক পরিচালনা এবং বিক্রয় বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন এই মূল্যের প্রবণতাকে চালিত করতে পারে, ভোক্তাদের সতর্ক থাকতে এবং বিকল্প বিনিয়োগের বিকল্পগুলি বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।