মালদ্বীপে চিকিৎসকদের সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক ও সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস
মালদ্বীপের বিভিন্ন স্বনামধন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রবাসে কর্মরত চিকিৎসকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম উপস্থিত চিকিৎসকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁদের এই মহান পেশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
দেশের সুনাম ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা
বৈঠকের শুরুতেই হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম চিকিৎসকদের ‘সেবা দূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চিকিৎসকরা কেবল রোগীদের সেবা দিয়ে মানবিক দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স যোগ করে জাতীয় উন্নয়নেও অসামান্য অবদান রাখছেন। বিদেশের মাটিতে তাঁদের এই নিরলস পরিশ্রম ও পেশাদারিত্ব বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
পেশাগত সংকট নিরসনে উদ্যোগ
আলোচনা পর্বে চিকিৎসকরা মালদ্বীপে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জের কথা হাইকমিশনারের কাছে তুলে ধরেন। ড. ইসলাম অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাঁদের প্রতিটি কথা শোনেন এবং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন। তিনি চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করে বলেন, হাইকমিশন এ বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আলোচনা করবে এবং সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানে বদ্ধপরিকর থাকবে।
জনকল্যাণে চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ
হাইকমিশনার প্রবাসে বসবাসরত সাধারণ বাংলাদেশিদের কল্যাণে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি চিকিৎসক গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা যেতে পারে। স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব নিয়ে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জন্য তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
আইনি সচেতনতা ও সুরক্ষা
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম প্রবাসে অবস্থানকালীন সময়ে মালদ্বীপের প্রচলিত আইন-কানুন ও বিধিবিধান মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, দেশের সম্মান রক্ষার্থে প্রত্যেক নাগরিককে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় সর্বদা পাশে থাকবে এবং যেকোনো প্রয়োজনে অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করবে।