সর্বশেষ
Loading breaking news...

রাজস্ব কমছে, ঋণের পাহাড়ে অর্থনীতি: আইএমএফের সতর্কবার্তা ও সংকটের গভীরতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বাংলাদেশের অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। একদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ে তীব্র স্থবিরতা, অন্যদিকে লাগামছাড়া ব্যয়ের চাপে বৈদেশিক ঋণের বোঝা ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ-রাজস্ব অনুপাত ১৬.৯২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আইএমএফের ১৮ শতাংশ সতর্কসীমার বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি। রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের মধ্যে শৃঙ্খলা না ফিরলে সামনের দিনগুলো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঋণের ভারে ন্যুব্জ অর্থনীতি

লন্ডনভিত্তিক গবেষকদের সমীক্ষা অনুযায়ী, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৩৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে যা ছিল ২৩.৫ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালে তা ১১২ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৮.১২ শতাংশে। জিডিপির তুলনায় ঋণের পরিমাণও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮.৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং নতুন ঋণ গ্রহণের ফলে এই চাপ আরও তীব্র হচ্ছে।

এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে রাজস্ব আয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি আসেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে আয়কর, আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট খাতে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অপচয়মূলক প্রকল্প ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এই ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে, যা নতুন সরকারের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএমএফের হুঁশিয়ারি ও সংস্কারের তাগিদ

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ মোট ঋণ জিডিপির ১১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, আগামী দুই বছরে ঋণ পরিশোধের বোঝা ৫-৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত না করলে এবং রাজস্ব আদায় না বাড়লে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী বাজেটে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোতে নেওয়া ৪২টি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের মধ্যে ২৯টিতেই ব্যয় গড়ে ৭০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বড় অংশই দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে অপচয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং রাজস্ব আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া এই চক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। ২০২৮ থেকে ২০৩২ সালকে অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন