সর্বশেষ
Loading breaking news...

জিপিএ-৫ এর আড়ালে শিক্ষার কঙ্কালসার রূপ: ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অগ্নিপরীক্ষায় নতুন নেতৃত্ব

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের শিক্ষা খাতে বর্তমানে এক চরম বৈপরীত্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির উৎসব চলছে, অন্যদিকে শিক্ষার গুণগত মান গিয়ে ঠেকছে তলানিতে। শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান এবং অর্জিত শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে পাহাড়সম ঘাটতি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডাবল জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের অনুত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা শিক্ষার এই করুণ দশাকেই জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে।

মেধার আড়ালে ভয়াবহ শূন্যতা: সাড়ে চার বছরের পিছিয়ে পড়া জাতি

বিশ্বব্যাংকের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক হাহাকার জাগানিয়া তথ্য। বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ১১ বছরের প্রথাগত শিক্ষা গ্রহণ করলেও শিখন মানের বিবেচনায় তা মাত্র সাড়ে ছয় বছরের সমতুল্য। অর্থাৎ, আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক মানদণ্ড থেকে অন্তত সাড়ে চার বছর পিছিয়ে আছে। সহজ কথায়, এ দেশের একাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর মেধা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সপ্তম শ্রেণির সমান।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘদিনের সঠিক পরিকল্পনাহীনতা, বিনিয়োগের অভাব এবং সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতা শিক্ষা খাতকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত বৈষম্য শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছে। মানসম্মত শিক্ষকের অভাব এবং শ্রেণীকক্ষে কার্যকর শিখনের অনুপস্থিতি মেধাবী প্রজন্মের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

১৮০ দিনের রোডম্যাপ ও দুর্নীতির মাকড়সার জাল ছিন্ন করার চ্যালেঞ্জ

এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাল ধরেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. মাহদী আমিন। দায়িত্ব নিয়েই শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ১৮০ দিনের এক বিশেষ ‘রোডম্যাপ’। তার অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে—শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা, জাতীয় কারিকুলাম পরিমার্জন এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন।

আগামীর লক্ষ্য: সমন্বিত পরিকল্পনা ও আমূল পরিবর্তনের অপেক্ষা

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদের মতে, খণ্ডিত লক্ষ্য দিয়ে শিক্ষার এই ধস ঠেকানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আগামী পাঁচ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং সমন্বিত মহাপরিকল্পনা। গ্রামীণ ও শহরের ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চশিক্ষায় গবেষণার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন প্রশাসনের আসল সফলতা। দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন