বগুড়ায় ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু নিরাময় কেন্দ্রে: চিকিৎসা নাকি নির্যাতন? চাঞ্চল্যকর দাবিতে আটক কর্মী
বগুড়ায় 'মায়ের আশ্রয়' নামক একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামের ওই কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতনে এই প্রাণহানি ঘটেছে।
চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
জানা গেছে, সামিউল হাসান শুভ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শহরের সাবগ্রাম সংলগ্ন 'মায়ের আশ্রয়' কেন্দ্রে ভর্তি হন। ভর্তির মাত্র এগারো দিনের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রের কর্মীরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে সামিউলের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান, যা তাদের সন্দেহকে জোরালো করেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বগুড়ার পুলিশ দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের ফলাফলের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বর্তমানে নিহত যুবকের শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে খুলবে মৃত্যুর আসল রহস্য
পুলিশ নিরাময় কেন্দ্রের একজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। স্বজনদের দাবি, এটি নিছক মৃত্যু নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিরাময় কেন্দ্রটির ভেতরে সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো ধরনের অনিয়ম ছিল কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে 'মায়ের আশ্রয়' কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাময় কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।