সর্বশেষ
Loading breaking news...

রিয়ালকে স্তব্ধ করে জেদ্দায় সুপার কাপের মুকুট পরল হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

সৌদি আরবের জেদ্দার ‘কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি’ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক শ্বাসরুদ্ধকর এল ক্লাসিকো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলল বার্সেলোনা। ম্যাচের পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা আর নাটকীয়তা, যেখানে মূল নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনহা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রাখা এই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়ে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা প্রমাণ করল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব।

প্রথমার্ধের অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা

ম্যাচের শুরুটা সমানে সমান হলেও ৩৬ মিনিটে রাফিনহার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রথম লিড পায় কাতালানরা। তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ মঞ্চস্থ হয় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে, যেখানে মাত্র পাঁচ মিনিটের এক গোল-বন্যায় ম্যাচের চিত্রই পাল্টে যায়। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়র দুর্দান্ত এক গোলে রিয়ালকে সমতায় ফেরান, কিন্তু তার ঠিক দুই মিনিট পরেই পেদ্রির পাস থেকে রবার্ট লেভানডোভস্কি বার্সাকে আবারও এগিয়ে দেন। তবে রিয়ালও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না; বিরতির ঠিক আগে তরুণ স্ট্রাইকার গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

রাফিনহার জাদুকরী মুহূর্ত

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ শানাতে থাকে, যার মধ্যে ৭১তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের একটি নিশ্চিত গোল রুখে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে তার ঠিক এক মিনিট পরেই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে ম্যাচের নায়কের। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া রাফিনহার শট মার্কো আসেন্সিওর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে বার্সেলোনা ৩-২ গোলের নির্ণায়ক লিড পায়। এটি ছিল ক্লাবের হয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে রাফিনহার সপ্তম গোল, যা তার বর্তমান ফর্মের তুঙ্গস্পর্শী অবস্থার জানান দেয়।

ফ্লিকের চতুর্থ শিরোপা

ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল মাদ্রিদ সমতায় ফেরার বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও বার্সা গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই জয়ের মাধ্যমে কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে নিজেদের চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলল বার্সেলোনা। জেদ্দার মাটিতে এই শিরোপা জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মৌসুমের বাকি সময়ে তাদের পথচলায় বড় ভূমিকা রাখবে।

রণাঙ্গনে লড়াই শেষে বিজয়ের হাসি হাসল বার্সেলোনা, আর ফুটবলপ্রেমীরা সাক্ষী হলো আরও একটি স্মরণীয় ক্লাসিকোর। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক এবং বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল কাতালানরাই। এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং চিরশত্রুর বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারের এক অনন্য দলিল হয়ে রইল।

আরও পড়ুন