বরিশালে যাচাই-বাছাইয়ে ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, ২ জনের স্থগিতাদেশ
বরিশাল সদর আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন একাধিক প্রার্থী। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এতে ঋণ খেলাপির দায়ে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তথ্যে গরমিল থাকায় আরও দুই প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে এবং তাদের সঠিক নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের পরিচয়
বাতিল হওয়া দুই প্রার্থী হলেন মো. জসিম উদ্দিন এবং আব্দুল খালেক। তারা উভয়েই স্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের দুজনের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে। শুনানিকালে তারা ঋণ পুনঃতফসিলের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থগিতাদেশের কারণ
যাদের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ছোট দলের প্রার্থী এবং অন্যজন স্বতন্ত্র। তাদের হলফনামায় আয়ের উৎস এবং কর প্রদানের তথ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামীকালের মধ্যে যদি তারা ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং সংশোধিত হলফনামা জমা দিতে পারেন, তবে তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় তাদের মনোনয়নও বাতিল হয়ে যাবে।
বৈধ প্রার্থীদের তালিকা
যাচাই-বাছাই শেষে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাসহ মোট ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা রয়েছেন। বৈধ প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে, যা প্রশংসনীয়।
আপিলের সুযোগ
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। তার দাবি, তিনি জামিনদার হিসেবে ঋণের দায়ে জড়িয়েছেন, তিনি নিজে ঋণ নেননি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।