বরিশালে শ্রমিক নেতাকে মারধর, বাস মালিক সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, টার্মিনালে উত্তেজনা
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে শ্রমিক নেতা আরজু মৃধাকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহত আরজু মৃধা বরিশাল জেলা শ্রমিক দলের একজন সদস্য, যা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।
চেয়ার দখল নাকি পুরনো শত্রুতার জেরে হামলা?
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে আরজু মৃধা নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এসময় বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন ও শ্রমিক ইউনিয়নের কথিত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফাসহ একদল লোক সেখানে উপস্থিত হয়ে আরজু মৃধার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আরজু মৃধার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনা এবং শ্রমিক ইউনিয়নের ওপর সিন্ডিকেট করে ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদ করায় তাকে হেনস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই আরজু মৃধা ও তার সহযোগীরা সমিতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তার দাবি, আরজু মৃধা জোর করে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার দখল করতে এলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “যে দখল করতে আসে তাকে তো আর আদর-আপ্যায়ন করা যায় না।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ
মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে নথুল্লাবাদ এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সাময়িকভাবে হেফাজতে নেয়। দীর্ঘ আলোচনার পর শান্তি বজায় রাখার শর্তে মোশারফ হোসেন ও আরজু মৃধাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ জানায়, চেয়ারে বসা নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মীমাংসা করা হয়েছে।
বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এই ঘটনা বরিশাল পরিবহন খাতের শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আবারও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের সংঘাত ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।