পবিত্র মাহে রমজানের সংযম আর ত্যাগের মহিমায় যখন গোটা দেশ উদ্ভাসিত, ঠিক তখনই টেকনাফের সীমান্তবর্তী জনপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ। সোমবার টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের ১০টি হতদরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে রমজানের বিশেষ খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেয় সংগঠনটি। নিত্যপণ্যের বাজারে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন এই মানবিক উপহার বিপন্ন পরিবারগুলোর জন্য বয়ে এনেছে প্রশান্তির পরশ।
অভাবের আঁধারে এক টুকরো আশার আলো
টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের প্রতিটি কোণায় বাছাইকৃত পাঁচটি করে মোট ১০টি পরিবারের হাতে এই ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগী ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালানো যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখনই বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সহায়তা তাদের সেহরি ও ইফতারের দুশ্চিন্তা দূর করেছে। ফাতেমা বেগমের মতে, এটি কেবল উপহার নয়, বরং চরম বিপদের মুহূর্তে এক পরম প্রাপ্তি।
মানবতার সেবায় এক নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার
এই মহতী বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বিপ্লবসহ সংগঠনের একনিষ্ঠ একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক। সদর ইউনিয়নে বিতরণকালে উপজেলা শাখার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলম, অর্থ সম্পাদক হাসিব মাহমুদ এবং ক্রীড়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, সাবরাং ইউনিয়নে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী সোহাগ, আজম উল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর হায়াত।
এককালীন সহায়তার ঊর্ধ্বে: মানবতার প্রতি অবিচ্ছিন্ন অঙ্গীকার
বসুন্ধরা শুভসংঘের এই কার্যক্রম কেবল একদিনের সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। টেকনাফ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বিপ্লব বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ একটি আদর্শ মানবিক প্ল্যাটফর্ম। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের যেকোনো সংকটে এই সংগঠন ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। ইতিপূর্বেও টেকনাফের ৩০ জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলেছে শুভসংঘ। আর্তমানবতার সেবায় এই সংগঠন আগামীতেও এভাবেই প্রান্তিক মানুষের পাশে ছায়ার মতো থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জীবনকে প্রভাবিত করা এবং স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি
এই চলমান প্রচেষ্টাগুলো বসুন্ধরা শুভসংঘের টেকনাফের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থিতিস্থাপক সম্প্রদায় গড়ে তোলা এবং জীবিকা উন্নত করার গভীর প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে। রমজানে খাদ্য নিরাপত্তার মতো তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণ করে এবং দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায়ন সহজ করে, সংস্থাটি দারিদ্র্য বিমোচন এবং আশা জাগানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে অপরিহার্য।