বঙ্গোপসাগরে ‘সোনার ফিশিং’ ও প্লাস্টিক দূষণ: মাছ শূন্য হওয়ার চরম শঙ্কা
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে যেভাবে বিষাক্ত প্লাস্টিক এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে মাছ শিকার চলছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সাগর মাছ শূন্য হয়ে পড়ার প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা জাহাজ ‘আর.ভি. ড. ফ্রিডটজফ ন্যানসেন’-এর জরিপে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়।
সোনার প্রযুক্তির মরণকামড়
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার সাগরে মাছ ধরে, যার মধ্যে ৭০টি ট্রলার অত্যন্ত আগ্রাসী ‘সোনার’ (Sonar) প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে মাছ শিকার করছে। এতে বড় মাছ শিকারিরা লাভবান হলেও সাধারণ জেলেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ২০১৮ সালের তুলনায় সাগরের অগভীর ও গভীর স্তরেই মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
২০০০ মিটার গভীরে প্লাস্টিক
গবেষণায় দেখা গেছে, সাগরের ইকোসিস্টেমে বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন আসছে। গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের মাত্রাতিরিক্ত আধিক্য সামুদ্রিক ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট লক্ষণ। আরও ভয়ের খবর হলো, সমুদ্রের দুই হাজার মিটার গভীরেও ক্ষতিকর প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ৮টি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী এই জরিপ পরিচালনা করেন এবং তারা জানান যে সাগরের পরিবেশ রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
সুন্দরবনের নিচে গোপন নার্সারি
প্রতিবেদনে আশার খবরও রয়েছে। গবেষকরা সুন্দরবনের তলদেশে একটি প্রাকৃতিক ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পেয়েছেন, যা সংরক্ষণে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, সরকার ‘সোনার ফিশিং’ বন্ধে দ্রুত কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিশাল সমুদ্রসীমার সম্পদ রক্ষায় পর্যাপ্ত গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।