সর্বশেষ
Loading breaking news...

কানাডায় বাঙালি গবেষকের নেতৃত্বে এআই ও রঙের খেলায় আবেগ চিনবে শিশুরা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

কানাডার ক্যালগেরিতে প্রবাসী শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজিত হতে চলেছে এক ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী কর্মশালা। আগামী ১৬ জানুয়ারি ফিশ ক্রিক পাবলিক লাইব্রেরিতে এই বিশেষ আয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলো খেলার ছলে শেখানো হবে। "নিওরো ক্রিয়েটর: এআই-পাওয়ারড ইমোショナル ইনটেলিজেন্স ওয়ার্কশপ" শীর্ষক এই আয়োজনটি ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের আবেগের সমন্বয় করতে শিখবে। শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে এই উদ্যোগটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

প্রযুক্তির সহজ পাঠ

'ক্রিয়েটিভ থিংকিং স্কুল'-এর এই যুগান্তকারী উদ্যোগের পুরোভাগে রয়েছেন কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি গবেষক মো. সাকিব উল্লাহ সৌরভ। তাঁর নিপুণ পরিচালনায় শিশুরা শিখবে কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তিকে সৃজনশীল সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সাকিব উল্লাহ সৌরভের লক্ষ্য হলো শিশুদের মাঝে প্রযুক্তির প্রতি ভয় দূর করে সেটিকে ইতিবাচক কাজে লাগানো। কর্মশালাটিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে নিজের আবেগ চিনতে ও প্রকাশ করতে হয়, তার ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হবে। গবেষকের এই অভিজ্ঞ পরিচালনা শিশুদের জন্য এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগুনের সাথে তুলনা

এই কর্মশালায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো একটি শক্তিশালী প্রযুক্তিকে আগুনের চমৎকার এক উপমার মাধ্যমে শিশুদের সামনে ব্যাখ্যা করা হবে। আগুন যেমন মানুষের পরম বন্ধু হতে পারে, তেমনি এর ভুল ব্যবহার ডেকে আনতে পারে মারাত্মক কোনো বিপদ। ঠিক একইভাবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভালো ও মন্দ দুটি দিকই খুব স্পষ্টভাবে শিশুদের বুঝিয়ে বলা হবে। এই সহজ উদাহরণের মাধ্যমে শিশুরা প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ এবং সুন্দর ধারণা পাবে। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার শেখানোই এই কর্মশালার অন্যতম প্রধান একটি উদ্দেশ্য।

রঙের বর্ণমালায় আবেগ

কর্মশালার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং চমৎকার একটি দিক হলো রঙের মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন আবেগ প্রকাশ করার পদ্ধতি। এখানে প্রতিটি আবেগের জন্য একটি নির্দিষ্ট রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন হলুদ রঙে খুশি এবং নীলে দুঃখ বোঝানো হবে। শিশুরা এই বিশেষ ইমোশন কালার কোড ব্যবহার করে সুপারহিরো, ড্রাগন বা রোবটের মতো তাদের পছন্দের ডিজিটাল চরিত্র তৈরি করবে। শুধু তাই নয়, নেতিবাচক রাগকে কীভাবে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, তাও শিশুদের এই কর্মশালায় শেখানো হবে। খেলার ছলে এই শিক্ষা শিশুদের মানসিক পরিপক্বতা অর্জনে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে।

সৃজনশীল আগামীর পথ

গবেষক মো. সাকিব উল্লাহ সৌরভ বলেন যে এই কর্মশালার মাধ্যমে শিশুরা কেবল এআই সম্পর্কেই জানবে না, বরং তাদের নিজস্ব আবেগীয় বুদ্ধিমত্তারও বিকাশ ঘটবে। ক্রিয়েটিভ থিংকিং স্কুলের সিইও ফাহিমা মুস্তানযিদ বলেন যে শিশুদের আবেগ ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে আগামীর পৃথিবী আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। প্রবাসী এই বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এমন আয়োজন কানাডার বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শিশুদের জন্য এটি হবে এক আনন্দময় ও শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন