সর্বশেষ
Loading breaking news...

অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টার ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ নজর বিএফআইইউ’র: আসিফ মাহমুদের লেনদেন যাচাইয়ের নির্দেশ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

আলোচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আর্থিক কার্যকলাপের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। দেশের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে। মঙ্গলবার একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিন কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য জমার নির্দেশ

সূত্র মতে, বিএফআইইউ দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে বলেছে। এই চিঠিতে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব খোলার যাবতীয় নথি এবং বিগত সময়ের সমস্ত আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণী অবিলম্বে বিএফআইইউ কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই তথ্য সরবরাহ করতে বলেছে, যা আর্থিক তদন্তের ক্ষেত্রে একটি দ্রুত ও জরুরি প্রক্রিয়া নির্দেশ করে।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাঁর এই উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক ভূমিকার প্রেক্ষাপটে, তাঁর ব্যাংক হিসাব তলবের এই ঘটনা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

তদন্তের নেপথ্যে কারণ

কোন নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হলো তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে দ্রুত তথ্য চাওয়ার বিষয়টি এই তদন্তের গভীরতা ইঙ্গিত করছে। সাধারণত সন্দেহজনক লেনদেন বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিএফআইইউ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর অনুসারীরা মনে করছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

বিএফআইইউ-এর এই পদক্ষেপের ফলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের দিকেও সন্দেহের তীর যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই তদন্ত কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন