সর্বশেষ
Loading breaking news...

ঈদ সংকটে পোশাক শিল্প: বিজিএমইএ’র ১৪ হাজার কোটি টাকার সফট লোন ও বকেয়া প্রণোদনা দাবি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
ঈদ আসার আগেই পোশাক শিল্পে ঘোর সংকট: বকেয়া প্রণোদনা ও ১৪ হাজার কোটি টাকার 'সফট লোন' চায় বিজিএমইএ। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নগদ অর্থের সংকটে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নগদ অর্থের চাপ মোকাবিলায় সরকারের কাছে বকেয়া থাকা বিপুল পরিমাণ রপ্তানি সহায়তা বা প্রণোদনা দ্রুত ছাড় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর আবেদন জানিয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে, দুই মাসের বেতন পরিশোধের জন্য নামমাত্র সুদে (সফট লোন) আরও ১৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিজিএমইএ'র একটি প্রতিনিধি দল গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবিসংক্রান্ত একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। সংগঠনটির পক্ষে সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক খান বাবলু এবং সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এই সাক্ষাতে অংশ নেন।

বকেয়া প্রণোদনা: শ্রমিকদের ঈদ অনিশ্চয়তায়

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিজিএমইএ'র সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, তৈরি পোশাক খাতের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা এখনো বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ দ্রুত ছাড় না হলে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রদানে কারখানাগুলো মারাত্মক সমস্যায় পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে প্রণোদনার অর্থ ছাড় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ (সফট লোন) চাওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ'র হিসাব অনুযায়ী, খাতটির মাসিক বেতন ব্যয় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে দুই মাসের জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। সংগঠনটির দাবি, সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন এবং টানা সরকারি ছুটির কারণে ৬০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩৫ দিন কাজ হয়েছে। ফলে ৬০ দিনের বেতন পরিশোধ করা অনেক কারখানার পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এসএমই বঞ্চনার আশঙ্কা ও গভর্নরের আশ্বাস

প্রণোদনা বিতরণের বিদ্যমান ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ পদ্ধতির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত বঞ্চিত হতে পারে—এমন গুরুতর আশঙ্কাও বিজিএমইএ গভর্নরের সামনে তুলে ধরেছে। এই প্রসঙ্গে তারা একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাজেট থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ প্রথমে এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ করতে হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ অন্যান্য কারখানাগুলোকে প্রদান করা যেতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ নেতারা জানান, গভর্নর প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বেতন সহায়তার বিষয়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, গভর্নর প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। গভর্নর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে তারা আশা করছেন, যা আগামী প্রণোদনা বিতরণ থেকেই কার্যকর হতে পারে।

শিল্পের সংকট গভীর: ট্রাম্প-প্রভাব এবং রপ্তানি পতন

সরকারি প্রণোদনার অর্থ সরকার বরাদ্দ দিলেও কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যাওয়া—এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ নেতারা জানান, তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয়ের জন্য গভর্নরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যা তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতি বছর ঈদের আগে এমন ঋণ চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে নেতারা বলেন, এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অচলাবস্থা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির প্রভাবে দেশের রপ্তানি খাত গত সাত মাস ধরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির শিকার। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিল্পকে সচল রাখতে দ্রুত সরকারি সহায়তা অপরিহার্য বলে তারা জোর দেন।

আরও পড়ুন