ভৈরবে নাটকীয় কায়দায় পুলিশের কাছ থেকে সাবেক কাউন্সিলরকে ছিনিয়ে নিল সমর্থকেরা, মামলা দায়ের
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে সাবেক এক পৌর কাউন্সিলরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে শহরের দুর্জয় মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নাশকতা মামলায় অভিযুক্ত ওই কাউন্সিলরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে শত শত সমর্থক লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে এবং তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে দুই কনস্টেবল আহত হন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ যখন সাবেক কাউন্সিলরকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। তারা 'পুলিশ হটাও' স্লোগান দিয়ে গাড়িতে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই সুযোগে অভিযুক্ত কাউন্সিলর ভিড়ের মধ্যে মিশে পালিয়ে যান। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশের মামলা ও অভিযান
এই ঘটনায় ভৈরব থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় পলাতক কাউন্সিলরসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং আসামি ছিনতাই একটি গুরুতর অপরাধ। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
এলাকায় উত্তেজনা
ঘটনার পর থেকে ভৈরব পৌর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক উত্তেজনা যাতে সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে প্রশাসন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছেন। সরকারি দলের নেতারা একে 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলের দাবি, মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার কারণেই সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে সুশীল সমাজ মনে করে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।