হলফনামায় চমক: বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ানের ৫৫ কোটি টাকার সম্পদ, পিছিয়ে নেই স্ত্রীও
নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা থেকে কুমিল্লার চান্দিনা আসনের বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদের বিপুল সম্পদের তথ্য জানা গেছে। তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রদর্শিত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া যায়। শুধু তিনি নন, তার স্ত্রীর নামেও রয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকার সম্পদ, যা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্পদের বিবরণ
রেদোয়ান আহমেদের আয়ের মূল উৎস হিসেবে ব্যবসা ও বাড়ি ভাড়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ঢাকা ও কুমিল্লায় একাধিক বহুতল ভবন, প্লট এবং বাণিজ্যিক স্পেস রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকে নগদ জমা, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়পত্রের পরিমাণও কয়েক কোটি টাকা। তার স্ত্রীর নামেও রাজধানী গুলশানে একটি আলিশান ফ্ল্যাট এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার থাকার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে তাদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
প্রার্থীর এই বিপুল সম্পদের খবরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকদের দাবি, রেদোয়ান আহমেদ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তার সম্পদ বৈধ উপায়ে অর্জিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে ব্যবসা করছেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন আয়ের উৎস নিয়ে। তারা বলছেন, রাজনীতিকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে এই সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
ঋণের তথ্য
সম্পদের পাহাড়ের পাশাপাশি রেদোয়ান আহমেদের কিছু ব্যাংক ঋণের তথ্যও হলফনামায় পাওয়া গেছে। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ১০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যা তিনি নিয়মিত পরিশোধ করছেন বলে দাবি করেছেন। ঋণ খেলাপি না হওয়ায় তার মনোনয়নে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তির পরিমাণ ঋণের চেয়ে অনেক বেশি।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব
এই সম্পদের হিসাব প্রকাশের পর নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ভোটাররা প্রার্থীদের স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। রেদোয়ান আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি সবসময় স্বচ্ছ রাজনীতি ও ব্যবসায় বিশ্বাসী। প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তিনি জনগণকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।